খামের ভেতরে ছিল প্রেমপত্র। পঞ্চাশের দশকে লেখা। যার সুর এখনও সতেজ, যেন কালই লেখা।
বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে। রোদ বেরিয়েছে। রাই মাথা হেলিয়ে দিল ইশানের কাঁধে।
রাইয়ের গলা ভার হয়ে এল। “তুমি আসলে কী জানতে চাও, ইশান?”
“আপনি চিঠিগুলো পড়েছেন?” রাই জিজ্ঞেস করল।
রাই একটি পত্রিকা অফিসে সম্পাদক হিসেবে কাজ করে। বাইরে দুনিয়া তাকে সফল বলে জানে, কিন্তু ভিতরে সে সবসময় একা। জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন অপূর্ণ থেকে গেল। ছোটবেলায় মাকে হারানো, বাবার দ্বিতীয় বিবাহ, সৎমায়ের উদাসীনতা—এসব তাকে বাঁচতে শিখিয়েছিল নিজের মতো করে, কিন্তু ভালোবাসতে শেখায়নি কখনও।
গল্পের বাইরে: এই উপন্যাসের মর্মকথা—আমরা সবাই কোনো-না-কোনো চিঠির খোঁজে থাকি। কেউ লেখে, কেউ পড়ে। কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা জন্ম নেয় যখন কেউ তোমার ‘অস্তিত্ব’ কে ‘অনুভূতি’ তে রূপান্তরিত করে। আর সেই কারণেই বর্ষা এত রোম্যান্টিক—কারণ বৃষ্টি কেবল ভেজায় না, সেটি মানুষের মনের আড়ালের গল্পগুলোও বের করে আনে।
ইশান তার দিকে তাকাল। বৃষ্টির ফোঁটা তখনও পড়ছে, শহরের আলো জলে মিশে ঝলমল করছে। “আমি জানতে চাই, তুমি কি আমায় তোমার জীবনে আসতে দেবে? আমি তোমায় চিনতে চাই। কেবল চিনতে না, বরং তোমার সাথে আমার সেই চিঠির গল্পটা লিখতে চাই—যার শেষটা হবে ‘এবং তারা বাঁচতে শুরু করল’।”
একদিন সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভে দাঁড়িয়ে ইশান বলল, “রাই, তুমি কি কখনও ভালোবেসেছ?”